মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
এ ছাড়া অপর দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। রোববার খুলনার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম খান এ রায় ঘোষণা করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কাজী মুরাদ, কাজী ফরহাদ হোসেন, মো. জাকির, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো ও সাইফুল। আসামি মো. জাকির পলাতক রয়েছে।
আসামি কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম ও কাজী মাসুমকে খালাস প্রদান করা হয়।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একই ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। রোমহর্ষক এ হত্যা মামলার পাঁচ আসামি জামিনে ছিলেন। ওই দিন আদালতে হাজির হলে তাদের সি-ডব্লিউ মূলে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন বিরেন্দ্র নাথ সাহা।
তিনি জানান, নিহত তয়ন খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নী মেইন রোডের কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতার ছেলে। ৩২ বছর বয়সী এই স্কুলশিক্ষককে ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হত্যা করে একটি ডোবার মধ্যে লাশ চাপা দিয়ে রাখে।
পরে মোবাইল ট্রাকিং করে একজন আসামিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। চলতি বছরেই মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুতবিচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি খুলনার বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠায় (দ্রুত মামলা নং-০১/২০২০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কাজী তাসফিন হোসেন তয়ন (৩২) ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট বিকালে নিখোঁজ হলে তার বাবা কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতা ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পর খালিশপুর থানা পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক আসামি সাইফুল ইসলাম গাজীকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেন যে, তিনিসহ তার সহযোগীরা ২৮ আগস্ট রাতে তয়নকে হত্যা করে মৃতদেহ বয়রা পুলিশলাইনের পশ্চিম পাশের ডোবা জমির উত্তর পাশের কচুরিপনা ও হোগলা বনের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছেন।
সাইফুলের দেখানো মতে, ওই ডোবা থেকে পিলার ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে আসামি সাইফুল ও অপর সহযোগী আসামি কাজী মুরাদ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তারা জানান, তারা দুজনসহ আরও কয়েকজন মিলে তয়নকে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে কাজী ফরহাদ হোসেন, কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো, কাজী মাসুম ও মো. জাকিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ পরে মো. জাকির ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেফতার করেন। এ ঘটনায় তয়নের বাবা বাদী হয়ে ২০১৮ সালে ৮ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা করেন (নং-১২)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান সাতজনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লিখিত ২২ সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনই আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
এসএস